পৃথিবীর বর্তমান মহাক্রান্তিকালে ডিজিটাল প্রযুক্তি জীবনধারা সচল রেখেছে। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীন ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে করোনা সক্রমণ বিস্তার রোধে অনেক সফলতাও পেয়েছে। বিশ্বে টেলিকম খাত শ্বাস প্রশ্বাসের মতই প্রয়োজনীয় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা করার অবস্থার অতিক্রম করার সময় এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন রোগীকে পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে অপারেশন করাও এখন সম্ভব।
বেইলী রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সেবাটি চালু করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। ফলে এখন দেশের যে কেউ ০৯৬১১৮৮৮১১১ নাম্বারে ফোন দিয়ে টেলিমেডিসিন সেবা নিতে পারবেন প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।
ভিডিও কনফারেন্সে আইইবির প্রেসিডেন্ট এবং আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো আবদুস সবুরের সভাপতিত্বে আরো যুক্ত ছিলেন, আইইবির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, আইইবির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো শাহাদাৎ হোসেন শীবলু, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার, আইইডিসিআর এর সাবেক পরিচালক ডা মো ইউসুফ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, জীবন, জীবীকা, অর্থনীতি , শিল্পবাণিজ্য বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতি খুব সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, ২০২০ সালের মহাসংকট পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে স্মরণ করতে চাই সারা পৃথিবীতে ২০০৮ সালে প্রথম ডিজিটাল দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলাম।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে পরবর্তিতে পৃথিবীর অনেক দেশ এটি অনুসরণ করেছে। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর ছিলো, কতটা প্রয়োজনীয় ছিল এবং কতটা সময়োপযোগী ছিলো আজ তা উপলব্দি করার সময় এসেছে। সড়ক, নদী এবং আকাশ পথসহ সমস্ত যোগাযোগ যখন বন্ধ হয়ে গেছে তখন ডিজিটাল যোগাযোগই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সকল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতির ফলে দু:সময়ে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা যাতে মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে পারি সেই দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।